বিশ্ববাজারে অস্থিরতা ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পাকা) স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব পড়েছে দেশের স্বর্ণবাজারে। দুই দিনের ব্যবধানে আবারও কমানো হলো স্বর্ণের দাম। আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) থেকে নতুন দর কার্যকর করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
বাজুস জানিয়েছে, সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম ৫ হাজার ৪৪৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকায়।
নতুন দরে অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হলো—
-
২১ ক্যারেট: কমেছে ৫,২০২ টাকা, নতুন দাম ১,৯৮,৮০১ টাকা
-
১৮ ক্যারেট: কমেছে ৪,৪৫৫ টাকা, নতুন দাম ১,৭০,৩৯৯ টাকা
-
সনাতন পদ্ধতি: কমেছে ৩,৮০৩ টাকা, নতুন দাম ১,৪১,৭১৭ টাকা
এর আগে দাম বেড়েছিল
মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক বাজার ও মুদ্রাবাজারের প্রভাব বিবেচনায় স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট ভরিপ্রতি দাম বাড়িয়ে করা হয় ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা। অন্যান্য ক্যারেটের দামও ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বাড়ানো হয়েছিল।
সেই তুলনায় আজকের সমন্বয়ে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
কেন দামে ওঠানামা
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাধারণত বাড়ে যখন—
-
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে
-
মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বিনিয়োগে ঝোঁকে
-
ডলারের মান কমে
অন্যদিকে ডলারের মান বাড়লে স্বর্ণের দাম কমতে থাকে। এসব কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় বাজারেও দামের ওঠানামা হচ্ছে।
রূপার দাম স্থিতিশীল
স্বর্ণের দাম কমলেও রূপার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বর্তমান দাম—
-
২২ ক্যারেট রূপা: ৪,২৪৬ টাকা ভরি
-
২১ ক্যারেট রূপা: ৪,০৪৭ টাকা ভরি
-
১৮ ক্যারেট রূপা: ৩,৪৭৬ টাকা ভরি
-
সনাতন রূপা: ২,৬০১ টাকা ভরি
সমাপ্তি
স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক ওঠানামা ক্রেতা–বিক্রেতা উভয়ের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রভাব বজায় থাকায় স্বর্ণবাজারে আরও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
