প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০২৫, রোববার
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রবাস বুলেটিন
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসের মধ্যেই সব প্রাক–প্রস্তুতি শেষ করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেনি কমিশন। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এই সাংবিধানিক সংস্থা।
🔹 নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ
ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচনী সামগ্রী ক্রয়, কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, রাজনৈতিক দল ও পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন—এসব কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে।
-
এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন।
-
১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
-
মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র ও ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
-
নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে **জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)**সহ তিনটি দলকে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপত্তি জানাতে সময় দেওয়া হয়েছে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত।
-
প্রথম ধাপে ৬৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন পেয়েছে।
🔹 প্রবাসী ভোটারদের জন্য নতুন ব্যবস্থা
আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পারবেন। তাঁরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর জন্য ইসি একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করছে, যা ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে। নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটাররা ওই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
🔹 গণভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে নাকি একই দিনে—সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ফলে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিও শুরু করা যায়নি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের সুপারিশ করলেও সময় নির্ধারণের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর।
-
বিএনপি চায়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হোক।
-
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চায়, গণভোট সংসদ নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করা হোক।
রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকায় ইসি নিজ থেকে কোনো অবস্থান নিচ্ছে না। কমিশন জানায়, সরকারের নির্দেশনা পেলেই প্রস্তুতি শুরু করা হবে।
🔹 বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন
ইসি সূত্র বলছে, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে হলে খরচ ও জনবল উভয়ই বাড়বে। কারণ, অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স, বুথ, নির্বাচনী সামগ্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাগবে। আর যদি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হয়, তবে ভোটকক্ষের সংখ্যা বাড়াতে হবে, কারণ ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে।
🔹 আইন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ইতিমধ্যে সরকার ৩ নভেম্বর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর ফলে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকও করছে কমিশন। তফসিল ঘোষণার পর আরও এক দফা বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।
🔹 নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন,
“আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। গণভোটের বিষয়টি সরকারের নির্দেশনা পাওয়ার পরই বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
উপসংহার:
ইসি এখন মূলত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে গণভোটের সময় ও কাঠামো নিয়ে সরকারের নির্দেশনা না আসায় বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে হলে প্রশাসনিক সমন্বয় সহজ হলেও রাজনৈতিক হিসাব জটিল হয়ে উঠতে পারে।
