প্রকাশের সময়: সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা, জানিয়েছে মন্ত্রণালয় সূত্র।
🔹 প্রস্তাবের অগ্রগতি
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪ নভেম্বর প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়, এর আগে তা অর্থ বিভাগেও প্রেরিত হয়। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তাদের মাসিক বেতন কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়বে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের কাজের পরিমাণ ও গুণগত মান আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে। তাই সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করা হয়।
একজন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি ও পেশাগত মর্যাদা বিবেচনায়ই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
🔹 শিক্ষক আন্দোলন চলমান
এদিকে, দশম গ্রেড বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে শনিবার (৮ নভেম্বর) থেকে প্রাথমিক শিক্ষকেরা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
তাদের তিন দফা দাবি—
-
সহকারী শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
-
উচ্চতর গ্রেডের জটিলতার স্থায়ী সমাধান,
-
সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত আছেন। আন্দোলনের কারণে দ্বিতীয় দিনেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
🔹 প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে, একই সঙ্গে ১৩তম গ্রেডের শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়।
তবে সহকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এতে বেতন কাঠামোয় বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা দূর না হওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।
উপসংহার:
সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার এই প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে দীর্ঘদিনের একটি দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোবে। তবে শিক্ষক সমাজ তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য—দশম গ্রেডের বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
