প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীজুড়ে টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তল্লাশি জোরদার করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বড় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তিন দিনে পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা
সোমবার গভীর রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেট, উত্তরা এবং মিরপুর ১ নম্বর এলাকায় চারটি বাস ও একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
-
মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে: যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে রাজধানী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
-
রাত ২টা ৮ মিনিটে: ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে রাইদা পরিবহনের আরেকটি বাসে অগ্নিসংযোগ।
-
রাত ২টা ৩৫ মিনিটে: বসুন্ধরা গেট সংলগ্ন ১০০ ফুট রোডে একটি প্রাইভেটকারে আগুন।
-
বুধবার ভোর ৪টার দিকে: উত্তরা সোনারগাঁও জনপদের খালপাড় এলাকায় রাইদা পরিবহনের একটি বাসে আগুন।
-
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায়: মিরপুর ১ নম্বর সনি সিনেমা হলের সামনে শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।
সবগুলো ঘটনায় অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পক্ষ এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
বিস্ফোরণে আতঙ্ক, জনশূন্য শহর
রাজধানীর ধানমন্ডি ১১/এ এলাকায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও সোমবার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, মিরপুর ও বাংলামোটরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে।
যদিও এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, তবুও নগরবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, অনেক দোকান ও অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্বাস
পুলিশ বলছে, রাজধানীতে নাশকতা ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ডিএমপি ও র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, গণপরিবহন টার্মিনাল ও সরকারি স্থাপনায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
