প্রকাশের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, রায়ে মোট পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড, বাকি দুইটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার বিচার কার্যক্রমে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক ছিলেন।
মামলার প্রেক্ষাপট:
-
মামলাটি প্রথমে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরুর পর পুনর্গঠন করা হয়।
-
২০২৫ সালের মার্চে মামলায় নতুনভাবে দুইজনকে আসামি করা হয়।
-
এটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল:
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিচার প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করলে বা গ্রেফতার হলে তারা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবেন।
-
আপিলের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
-
আপিল নিষ্পত্তির জন্য আইনে ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত আছে।
-
সর্বোচ্চ আদালতে আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পর রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা সম্ভব।
-
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সাজা মওকুফের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ক্ষতিপূরণ:
ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানিয়েছেন, সরকার এনবিআর ও অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে রায়ের বাস্তবায়ন করবে।
প্রতিক্রিয়া:
শেখ হাসিনা রায়কে “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। ভারতের অবস্থানরত তিনি বলেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ, যা আওয়ামী লীগকে নিস্ক্রিয় করতে করা হয়েছে।
পটভূমি:
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠন করা হয় এবং একই ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে মামলাটির বিচার সম্পন্ন করেছে।
