প্রকাশের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, মোতালেব প্লাজা, স্টার প্লাজাসহ বড় সব মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা হাজারো ক্রেতা আজ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ নতুন ফোন কিনতে, কেউ পুরোনো ফোন মেরামত করতে আসলেও শেষমেষ ফিরে যেতে বাধ্য হন।
ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের পটভূমি:
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) বুধবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘এনইআইআর বাস্তবায়ন: মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী মোবাইল মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ পিয়াস এবং সাংবাদিক মিজানুর রহমানকে ডিবি পুলিশ রাতের বেলা বাসা থেকে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা এটি ‘অন্যায় আটক’ হিসেবে অভিহিত করে ডিবি অফিস ঘেরাও করেন। পরে মিজানুরকে সকালে, আর পিয়াসকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ:
এমবিসিবির সদস্যরা বলেন, রাতের সময়ে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করা এবং হঠাৎ মার্কেট বন্ধ করা ব্যবসায়ীদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা উচিত।
কর কাঠামো ও বাজারে প্রভাব:
বর্তমান কর কাঠামো অনুযায়ী এনইআইআর চালু হলে মোবাইল ফোনের দাম অনেক বেড়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাজারে ফোনের ক্রয়যোগ্যতা কমে যাবে। মুঠোফোন বিক্রেতা কামাল হোসেন জানান, প্রস্তাবিত ৫৭% ভ্যাট–কর লাগেজ ফোনের বাজারকে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি, এটি অবৈধ ফোনের ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে পারে এবং সরকার রাজস্ব হারাতে পারে।
সরকারি উদ্যোগ:
সরকার আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (National Equipment Identity Register) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপে টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
উপসংহার:
এনইআইআর বাস্তবায়নের কারণে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে—বাজারে সুষ্ঠু ফোন সরবরাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
