রোববার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি কার্ড চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে, যার মাধ্যমে প্রবাসীরা একাধিক সুবিধা এক জায়গা থেকে পাবেন। তিনি বলেন, “প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন সব সুবিধা নিতে পারেন সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।”
রেমিট্যান্স, ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পরিচয়ের সুবিধা থাকবে
প্রস্তাবিত কার্ডে কী ধরনের সুবিধা থাকবে সে বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কার্ডের সঙ্গে আর্থিক ও ডিজিটাল বিভিন্ন সেবা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করি নাই। কিন্তু এখানে তার কারেন্সি সুবিধাটা কীভাবে পেতে পারে, তাদের সহজে রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্ট গেটওয়ে কীভাবে হবে—এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রও এই কার্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ট্র্যাকিং সুবিধাও থাকবে।”
ভূমি ও স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা
মন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য ভূমি সংক্রান্ত সেবা সহজ করার বিষয়েও কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, “আমরা চাই কোনো প্রবাসী এই কার্ড দেখালে ভূমি সংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার পান। এছাড়া হাসপাতালে গেলে অন্তত একটি বিশেষ প্রায়োরিটি পায়। এসব জায়গায় আমরা পরিবর্তন আনতে চাই।”
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগের অঙ্গীকার
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তার মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, আমি যদি এখানে মন্ত্রী থাকি তাহলে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। জিরো টলারেন্স। দীর্ঘদিন যে বিষয়টি আপনারা শুনেননি, আগামী ১০-১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে—সময় কিছুটা বেশি লাগতেও পারে—আপনারা সেই প্রস্তাবনা দেখতে পাবেন। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং আমাদের শ্রমবাজার খুলে যাবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার নিশ্চিত করাই আমার চ্যালেঞ্জ। এটা যদি না করতে পারি, তাহলে আমি চলে যাব। আমি বিষয়টিকে বিশেষভাবে নিয়েছি।”
তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে নতুন শ্রমচুক্তির তথ্য নেই
চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার সংক্রান্ত কোনো নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই।
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো নিউজ নেই। আমরা একটি এমওইউ করে এসেছি, সেটি আপনারা জানেন।”

