প্রকাশের তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক অর্থ আদায় এবং প্রতারণার সংস্কৃতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতারণা ও অতিরিক্ত খরচ বন্ধে জোর
প্রতিমন্ত্রী জানান,
-
বিদেশগামী শ্রমিকদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানো হবে।
-
দালাল ও সিন্ডিকেটভিত্তিক অনিয়ম দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
-
প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, অসাধু ব্যক্তি ও চক্রের কারণে অনেক শ্রমিককে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অনিয়ম বন্ধ করতেই হবে।
দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার
বর্তমান দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নুর বলেন, অতীতে তিনি রাজপথে নেমে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন সরকারে থেকে সেই অধিকার বাস্তবে কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ।
তার ভাষায়, মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেই রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জিত হয়েছে—এখন তা বাস্তবায়নের সময়।
জটিল দুই মন্ত্রণালয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই খাত—প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান—কে জটিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামনে অনেক কাজ অপেক্ষা করছে।
তিনি যেসব দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
ঈদের সময় বেতন বিলম্ব
-
দূতাবাসগুলোতে শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তার সংকট
-
বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের বিভিন্ন ভোগান্তি
-
উচ্চ অভিবাসন ব্যয়
প্রত্যাশা ও করণীয়
বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে ব্যয় ও প্রতারণা উভয়ই কমানো সম্ভব হতে পারে।
প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও স্বার্থরক্ষায় প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হলেও, তা বাস্তবায়নে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও ধারাবাহিক নজরদারি এখন সময়ের দাবি। প্রবাসী খাত সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি থাকবে সরকারের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে।
