প্রকাশের তারিখ: ১ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো বাংলাদেশি যাত্রী এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয় দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় সৌদি আরব-এর মক্কা ও মদিনা-য় আটকা পড়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আবাসন, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন এসব যাত্রী।
ফ্লাইট স্থগিত, বিপাকে যাত্রীরা
শনিবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস-এর একটি ফ্লাইটে থাকা বহু ওমরাহযাত্রীর। তবে আকাশপথে বিধিনিষেধ জারির কারণে ফ্লাইটটি স্থগিত হয়। একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও সৌদি এয়ারলাইনস-এর যাত্রীরাও।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার পরপরই ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরে একে একে ইরান, ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই সিদ্ধান্ত নেয়। বাহরাইন, দুবাই ও কাতারসহ একাধিক দেশের আকাশপথে বিধিনিষেধ জারি হওয়ায় ঢাকা থেকেও এসব গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
ফলে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ইউএস-বাংলার যে ফ্লাইটটি শনিবার রওনা হওয়ার কথা ছিল, সেটি যেতে পারেনি। আর সেই ফ্লাইটেই ফেরার কথা ছিল আটকা পড়া যাত্রীদের।
হোটেল সংকট ও মানবিক দুর্ভোগ
মক্কা ও মদিনার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থানরত অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কক্ষ ছেড়ে দেন। পরে ফ্লাইট স্থগিতের খবর পেয়ে হোটেলে ফিরে গেলেও নতুন করে কক্ষ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। অনেকে আবাসন সংকটে পড়েছেন।
আটকা পড়া যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, স্থানীয় এয়ারলাইনস প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা মিলছে না। যোগাযোগ করতেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।
এয়ারলাইনসের পরামর্শ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যাত্রীদের ১৩৬৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করে সর্বশেষ ফ্লাইট পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার দাম্মাম, জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, শারজাহ, আবুধাবি, কুয়েত ও দুবাইগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া বিমানবন্দরে না আসার অনুরোধ করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য যাত্রীদেরও নিজ নিজ এয়ারলাইনস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
হাজারো ওমরাহযাত্রীর এই দুর্ভোগ কতদিন স্থায়ী হবে—তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
