প্রকাশের তারিখ: ৪ মার্চ ২০২৬
মানামা/চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাহরাইনে কর্মরত এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোরে রাজধানী মানামার সন্নিকটে একটি সামুদ্রিক এলাকায় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলায় মোহাম্মদ তারেক (৪৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মানামার কাছাকাছি সামুদ্রিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ধ্বংসাবশেষ সরাসরি একটি জাহাজের ওপর আছড়ে পড়ায় সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা হতাহত হন।
গত শনিবার থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে আসছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
নিহতের পরিচয়
নিহত মোহাম্মদ তারেকের বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলা-র আজিমপুর ইউনিয়নে। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে বাহরাইন-এ কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ একটি ড্রাইডক শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় এই হামলার শিকার হন।
পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি নিয়মিত দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতেন। তার ফুফাতো ভাই ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। পাল্টা জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে আঞ্চলিক সূত্রে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
দূতাবাসের পদক্ষেপ
নিহতের মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস আহত দুই বাংলাদেশির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে বলে জানিয়েছে।
সন্দ্বীপের আজিমপুরে নিহত তারেকের পরিবারের সদস্যরা এখন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
