প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের চলমান শাটডাউনের কারণে বিমান চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম অচলাবস্থা। স্থানীয় সময় শনিবার দেশটির অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক রুটে নির্ধারিত ১৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ৬ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার জানিয়েছে, শুক্রবারও প্রায় ৭ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪০টি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর ঘোষণা দেয়।
🔹 শাটডাউনের প্রভাব ও এফএএর পদক্ষেপ
এফএএ জানিয়েছে, বেতন ছাড়া কাজ করতে থাকা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ক্লান্তি বিবেচনায় বিমান চলাচলের ক্ষমতা কমানো হয়েছে। দেশটিতে চলমান শাটডাউন শুরু হয়েছে গত ১ অক্টোবর, যা শনিবারে ৩৯ দিনে পা দিল—এটাই মার্কিন ইতিহাসের দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউন।
শাটডাউনের ফলে প্রায় ১৪ লাখ ফেডারেল কর্মচারী হয় বেতন ছাড়াই কাজ করছেন, নয়তো জোরপূর্বক ছুটিতে রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ৬৪ হাজার ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি এজেন্সি (টিসিএ) কর্মী, যাদের বেতন বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ছে।
🔹 সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর
শনিবার সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে—
-
শার্লট/ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,
-
নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, এবং
-
শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
এফএএর তথ্যমতে, দুপুর নাগাদ নিউয়ার্ক বিমানবন্দরে আগত ফ্লাইট গড়ে ৪ ঘণ্টা এবং প্রস্থানকারী ফ্লাইট গড়ে দেড় ঘণ্টা বিলম্বিত ছিল।
অন্যদিকে, জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গড়ে ৩ ঘণ্টা, আটলান্টার হার্টসফিল্ড–জ্যাকসন বিমানবন্দরে ২.৫ ঘণ্টা, এবং লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে প্রায় ১ ঘণ্টা বিলম্ব রেকর্ড করা হয়েছে।
🔹 রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এখনো কোনো সমাধান আসেনি। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সিনেটররা ওয়াশিংটনে থেকে আলোচনায় বসেছেন।
এদিকে, খাদ্য সহায়তা ব্যয়ে কাটছাঁট ও বিমান চলাচলে বিশৃঙ্খলার কারণে সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আসন্ন থ্যাঙ্কসগিভিং (২৭ নভেম্বর) মৌসুমকে ঘিরে বিমানবন্দরগুলোতে ভ্রমণ চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে এফএএ।
🔹 সরকারি ও বেসরকারি প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি শনিবার এক্স-এ পোস্ট করে জানান, ব্যক্তিগত বিমানের সংখ্যা কমিয়ে তাদের ছোট এয়ারফিল্ড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে “ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো নির্বিঘ্নে পরিচালিত করা যায়।”
অন্যদিকে, আমেরিকান এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনের নেতাদের প্রতি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
🔹 পরবর্তী পদক্ষেপ
এফএএ সতর্ক করেছে, আগামী সপ্তাহে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিমান চলাচল ক্ষমতা ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে।
শেষ কথা:
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের দীর্ঘতম এই সরকারি শাটডাউন শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্রুত সমাধান না এলে আসন্ন থ্যাঙ্কসগিভিং মৌসুমে বিমান চলাচল আরও ভয়াবহ অচলাবস্থার মুখে পড়তে পারে।
