প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্ক সিটি ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করতে যাচ্ছে। শহরটির ৩৪ বছর বয়সী তরুণ রাজনীতিক জোহরান মামদানি হচ্ছেন নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও প্রথম আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মেয়র। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর তিনিই হবেন শহরের সবচেয়ে তরুণ মেয়র।
এক শতাব্দী পর ‘দাড়িওয়ালা’ মেয়র
যদি অভিষেকের আগে তিনি হঠাৎ চুল–দাড়ি কাটার সিদ্ধান্ত না নেন, তবে জোহরান হবেন ১৯১৩ সালে মারা যাওয়া উইলিয়াম জে গেনরের পর নিউইয়র্কের প্রথম শ্মশ্রুমণ্ডিত (দাড়িওয়ালা) মেয়র। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এর পর থেকে নিউইয়র্কের কোনো মেয়রের মুখে দাড়ি ছিল না—শুধু ডেভিড ডিঙ্কিন্সের ছিল গোঁফ।
তবে জোহরানের দাড়ির তাৎপর্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৯০৯ সালে নির্বাচিত গেনরের ধূসর-সাদা দাড়ি তাঁর প্রৌঢ় ব্যক্তিত্বের প্রতীক ছিল। বিপরীতে, জোহরানের ঘন কালো দাড়ি তাঁর প্রজন্মের প্রতিবাদ, অন্তর্ভুক্তি ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
প্রতীকী প্রতিবাদের অংশ দাড়ি
২০১৩ সালে কলেজজীবনে লেখা নিজের একটি প্রবন্ধে জোহরান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দাড়ি রাখার সিদ্ধান্ত ছিল এক ধরনের প্রতিবাদ—“বাদামি গায়ের রং আর দাড়ি মানে সন্ত্রাসী”—এই বর্ণবাদী ধারণার বিরুদ্ধে।
তিনি লিখেছিলেন, “আমার দাড়ি মানুষকে মনে করায় যে আমি বিপজ্জনক। অথচ এটাই আমার পরিচয়ের অংশ, আমার অস্তিত্বের প্রতীক।”
কায়রোতে পড়াশোনার সময় স্থানীয়রা তাঁকে ইসলামপন্থী ভেবে নেওয়ায় একসময় দাড়ি ছাঁটতে বাধ্য হন। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি লেখেন, “তখন নিজেকে মনে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর যারা ভয় পেয়ে দাড়ি কেটে ফেলেছিলেন, তাঁদের একজন।”
এর পর থেকে তিনি প্রায় সব সময়ই দাড়ি রেখেছেন। শুধু ২০২২ সালে অল্প কিছুদিনের জন্য গোঁফ রেখেছিলেন, পরে আবার পূর্ণ দাড়িতে ফিরে যান।
প্রচারে ‘বর্ণবাদী’ আক্রমণ
মেয়র নির্বাচনের প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোর সমর্থকেরা জোহরানের দাড়িকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। কুমো-সমর্থিত একটি সুপার পিএসি প্রচারে জোহরানের ছবিতে তাঁর দাড়িকে আরও ঘন ও কালো করে দেখানো হয়—যেন তাঁকে হুমকিস্বরূপ উপস্থাপন করা যায়।
এ বিষয়ে জোহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমার দাড়ি ঘন ও কালো করে দেখানো বর্ণবাদী মানসিকতার প্রতিফলন। এটি আমাকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, কারণ তাঁরা ভয় পেয়েছেন—একজন বাদামি, মুসলিম, তরুণ মেয়রের সম্ভাবনায়।”
ইতিহাসের নতুন অধ্যায়
জোহরান মামদানি শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও এক নতুন বার্তা দিয়েছেন—বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও প্রজন্মের পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে।
তিনি এমন এক সময় মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে।
তাঁর নেতৃত্বে নিউইয়র্ক সিটি কেমন পথ বেছে নেয়—তা এখন শুধু শহরের নয়, বরং পুরো বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
📌 সূত্র: The New York Times, Associated Press, NYC, Gov Archives
