তারিখ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, রোববার
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে ১০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রচারের অভিযোগে বিবিসির দুঃখপ্রকাশের পরই এমন সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।
গতকাল শুক্রবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। তারা স্বীকার করেছে যে প্রতারণা করেছে। আগামী সপ্তাহেই যেকোনো দিন বিষয়টি আদালতে যেতে পারে।’
বক্তৃতা বিকৃত করার অভিযোগ
ট্রাম্পের আইনজীবীরা গত সোমবার বিবিসিকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। সেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ক্যাপিটল হামলার আগে ট্রাম্পের দেওয়া বক্তৃতার সম্পাদিত ভিডিও প্রচার করে তাঁর মানহানি করা হয়েছে। বক্তৃতার আলাদা দুটি অংশ জোড়া দিয়ে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছিল যে মনে হয় তিনি সরাসরি সহিংসতার উসকানি দিচ্ছেন।
নোটিশে বিবিসিকে শুক্রবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্পের মন্তব্য
শুক্রবার রাতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যের মানুষ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এবং ‘বিবিসি হলো ফেক নিউজ’—এ ধারণা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ‘স্টারমার নিজেই বিব্রত। সপ্তাহান্তে আমি তাঁকে ফোন করব।’
বিবিসির অবস্থান
বিতর্কিত ভিডিও সম্পাদনার ঘটনায় বিবিসি ইতোমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তবে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি নয়। বিবিসির পক্ষ থেকে পাঁচটি যুক্তি দেখিয়ে বলা হয়েছে—মানহানির মামলা করার মতো কোনো ভিত্তি নেই।
এ ঘটনার জেরে বিবিসির মহাপরিচালক এবং শীর্ষ সংবাদ নির্বাহী পদত্যাগ করেছেন। বিবিসি জানায়, চেয়ারম্যান সামির শাহ হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়ে সম্পাদনার ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পটভূমি
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে ট্রাম্প–সমর্থকদের হামলার আগে দেওয়া তাঁর বক্তৃতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। বিবিসির তথ্যচিত্রে প্রচারিত সম্পাদিত ভিডিওকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত।
ট্রাম্পের আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ–সম্পর্কে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেবে বলে বিশ্লেষকদের মত।
