প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন—পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তারা এ কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকাকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করবেন।
কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা জোরদার
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, গত ১১ দিনে রাজধানীর ১৫টি স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন,
“১৩ নভেম্বর নিয়ে কোনো আশঙ্কার কারণ নেই। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।”
সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও ঢাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা শাখার নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই ঢাকায় অবস্থান নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের অবস্থান
নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবেই ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি পালন করবেন।
দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসি বাংলাকে বলেন,
“সরকারের মদদপুষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো নাশকতা করছে, অথচ দায় দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওপর। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করব।”
বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমও বলেন,
“শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ ভুয়া রায়ের প্রতিবাদেই লকডাউন আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করে আমরা জনগণের প্রতিবাদ জানাবো।”
ট্রাইব্যুনালের রায় ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৩ নভেম্বর ২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবে। এই ঘোষণার পর থেকেই ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বাড়তে থাকে।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকেই দায়ী করছে। তবে দলটির নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, সরকার তাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, শেখ হাসিনার মামলার রায়কে ঘিরে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের চাপে রয়েছে। তিনি বলেন,
“তারা এটিকে একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু সহিংসতা বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ২০১৩–১৪ সালের অভিজ্ঞতাও তা প্রমাণ করেছে।”
সরকারের সতর্ক বার্তা
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন,
“সরকার সতর্ক আছে, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
