প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও হঠাৎ বিক্ষোভে অংশ নিলে পাঁচ হাজার টাকা, আর ব্যানার ধরলে আট হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে—গ্রেপ্তার হওয়া দলীয় কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, এসব কর্মসূচি রাজনৈতিক নয়, বরং নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ এখন এসব কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগানদাতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।
গ্রেপ্তার তিন হাজারের বেশি কর্মী
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছরের মে মাসে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরও গত ১০ মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এসব মিছিল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসব মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের দাবি, এসব তৎপরতার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক নয়—জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্ন করা।
অর্থদাতাদের খুঁজছে পুলিশ
ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,
“যারা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ করে শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পাশাপাশি যারা তাদের আশ্রয়, ইন্ধন বা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছু এলাকার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধ্যমতো অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু এ ধরনের সংগঠিত তৎপরতা শুধু গ্রেপ্তার করে ঠেকানো সম্ভব নয়। যেহেতু এখানে আর্থিক প্রণোদনা ও সংগঠিত অর্থায়নের বিষয় রয়েছে, তাই গোয়েন্দা নজরদারি ও রাজনৈতিক সমঝোতা—দুটোই জরুরি।”
তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনপূর্ব সময়টিতে নাগরিক নিরাপত্তা ও জনমনে স্থিতি ফেরাতে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অর্থের উৎসও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
