লন্ডন, যুক্তরাজ্য
অবৈধভাবে মানব পাচারের অভিযোগে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে United Kingdom সরকার। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম Dream Home Travels and Tours Limited।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা সম্ভাব্য সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
গত ৫ মে Foreign, Commonwealth & Development Office এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী Yvette Cooper।
যুক্তরাজ্যের ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্র্যাফিকিং ইন পারসন্স স্যাংশনস রেগুলেশনস ২০২৫’-এর আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড প্রতারণার মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারে জড়িত ছিল। পরে ওই কর্মীদের বিভিন্নভাবে শোষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচারসংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের রিক্রুটিং ও ট্রাভেল খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, বৈধতা ও অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক নজরদারি আরও বাড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশগামী কর্মীদের অবশ্যই সরকার অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
