প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২৫
প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার খুলে উদ্ধার করা ৮৩১ দশমিক ৬৭ ভরি স্বর্ণ একা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়—তার পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে লকারগুলোতে এসব সংরক্ষিত ছিল বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণালংকার, স্বর্ণের নৌকা ও হরিণের আকৃতির শোপিসও।
বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
উদ্ধারের বিস্তারিত
দুদক জানায়,
-
পূবালী ব্যাংক, মতিঝিল কর্পোরেট শাখা
-
গ্রাহক: শেখ হাসিনা
-
লকার নং: ১২৮
-
উদ্ধার: শুধুমাত্র একটি ছোট পাটের ব্যাগ (খালি)
-
-
অগ্রণী ব্যাংক, প্রিন্সিপাল শাখা
-
লকার নং: ৭৫১/বড়/১৯৬
-
গ্রাহক: শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
-
উদ্ধার: ৪,৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার
-
-
লকার নং: ৭৫৩/বড়/২০০
-
গ্রাহক: শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা
-
উদ্ধার: ৪,৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার
-
-
মোট উদ্ধার: ৯৭০৭.১৬ গ্রাম (৮৩১.৬৭ ভরি) স্বর্ণ।
আইনগত প্রক্রিয়া
দুদকের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন—
-
একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
-
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বর্ণ বিশেষজ্ঞ
-
এনবিআর-এর কর গোয়েন্দা কর্মকর্তা
-
সিআইসি মনোনীত কর্মকর্তারা
-
সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপক
এসব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে লকার খোলার।
মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি লকার খোলা হয় ও প্রাথমিক ইনভেন্টরি তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
মালিকানা ও মূল্য নির্ধারণ
মো. আক্তার হোসেন জানান—
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার লকারে থাকা বর্ণনা ও লিখিত চিরকুট অনুযায়ী এসবের মালিকানা শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মালিকানার তালিকায় থাকতে পারেন:
-
শেখ রেহানা সিদ্দিকী
-
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
-
সজীব ওয়াজেদ জয়
-
ববি
ইনভেন্টরি তালিকা ও স্বর্ণকারের মূল্য নির্ধারণ শেষে প্রতিটি আইটেমের আইনগত দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।
পরবর্তী করণীয়
-
মালিকানা নিশ্চিতকরণ
-
মূল্য নির্ধারণ
-
আইনি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা মূল্যায়ন
-
পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু
দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক তালিকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
