ঢাকা, ৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ কর্মীদের নৈতিক, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন “সাপোর্টিং এ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উইথ বাংলাদেশ” প্রকল্প দ্বিতীয় বছর সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রকল্পটির আওতায় ইতোমধ্যে ৬৯৮ জন দক্ষ কর্মী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যোগ্যতা অর্জন করে ইউরোপের শ্রমবাজার, বিশেষ করে ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।
বুধবার (২ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কারিগরি সহায়তায় ৩ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বোয়েসেল সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
৮টি ট্রেডে প্রস্তুত ৬৯৮ কর্মী
জুন ২০২৬ পর্যন্ত অগ্রগতি অনুযায়ী, কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৬৯৮ জন কর্মী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নে চূড়ান্তভাবে যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তারা মোট আটটি প্রধান ট্রেডে ইউরোপের শ্রমবাজারে কাজের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
ইতালির বিভিন্ন খাতে কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ইতালির দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বর্তমানে নিয়োগ সাক্ষাৎকারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম আরও আধুনিক করার নির্দেশ
প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের তথ্য ইতালিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের চাহিদা অনুযায়ী ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার বিষয়ে সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, নিরাপদ, টেকসই ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ওভারসিস এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মকে আরও কার্যকর করতে হবে। তিনি প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহার সহজ করতে দ্রুত মোবাইল-সক্ষম (মোবাইল-ফ্রেন্ডলি) সংস্করণ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মীদের শুধু ইতালি নয়, অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এতে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়বে এবং বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
ভাষা শিক্ষা ও এমপ্লয়ার-ম্যাচিংয়ে গুরুত্ব
প্রকল্পের আগামী পর্যায়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিক্ষা এবং ১০ দিনের প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি ‘এমপ্লয়ার-ম্যাচিং পাইপলাইন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে দক্ষ কর্মীরা দ্রুত বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ
পর্যালোচনা সভায় আইএলও’র চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার লোটে কেইসার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপদ অভিবাসনে নতুন দিগন্ত
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রকল্প দেশের দক্ষ জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা, স্বচ্ছ নিয়োগ এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে কর্মী প্রেরণের মাধ্যমে মানবপাচার ও অনিয়ম কমিয়ে নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
