কুয়ালালামপুর, ২১ জুন
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি মালয়েশিয়ার রাজধানীতে পৌঁছান। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সুসজ্জিত বাহিনীর গার্ড অব অনারের সময় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তাঁর সহধর্মিণী। এ সময় শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জুবাইদা রহমানকে।
স্বাগত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী এবং ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা।
পরে বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী এবং সফরসঙ্গীরা সেখানেই অবস্থান করবেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিনিটের সড়কপথ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম মালয়েশিয়া সফর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম মালয়েশিয়া সফর। সরকার গঠনের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাঁকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সফরে অংশ নিয়েছেন।
আজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন।
এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পরে উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্ব
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার বাংলাদেশ। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বর্তমানে মালয়েশিয়া এগিয়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
সফরকালে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

