কুয়ালালামপুর | ১৫ জুলাই ২০২৬
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মালয়েশিয়াজুড়ে পরিচালিত অভিবাসনবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৩৭ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। একই সময়ে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় এক হাজার নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ৬ হাজার ২৩৭টি অভিযানে মোট ৮৪ হাজার ৪৬৪ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৯০০ জন অবৈধ অভিবাসী এবং ৯৭৮ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, শুধু জুন মাসেই দেশব্যাপী ১ হাজার ১৫৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৩ হাজার ৭৮ জনের নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৯৩ জন বিদেশি নাগরিক এবং ১৩৩ জন নিয়োগকর্তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়।
মহাপরিচালক বলেন, আটক বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছিল বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস না থাকা। এছাড়া ইমিগ্রেশন বিভাগের দেওয়া পাসের অপব্যবহারের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শনাক্ত হয়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে জাকারিয়া শাবান বলেন, এ সংক্রান্ত নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তার আইনগত অবস্থান এবং বৈধ নথিপত্রের ভিত্তিতে।
তিনি জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অধিকাংশ রোহিঙ্গার কাছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর পরিচয়পত্র রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বৈধ পাস না থাকা বা ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার মতো অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, রোহিঙ্গারা দেশের প্রচলিত অন্যান্য আইন থেকে অব্যাহতি পান না। কেউ যদি ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হন বা অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া কেউ অবৈধভাবে সড়কের পাশে ব্যবসা পরিচালনা করলে স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (পিবিটি) এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ইমিগ্রেশন বিভাগ যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে বলেও জানান ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক।
