ঢাকা, ১৬ মে ২০২৬
লেখক প্রতিবেদন
বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য শ্রমবাজার হিসেবে মালয়েশিয়ার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। উন্নত বেতন কাঠামো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মানের কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের কাছে দেশটি এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যগুলোর একটি। তবে একটি অসাধু মানব পাচারকারী চক্রের অপপ্রচারে এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেআরএন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সিস ফোরাম (BRAF)-এর সহ-দপ্তর সম্পাদক মেহেদী হোসেন বলেছেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশি কর্মীদের ন্যূনতম মূল বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার সমান, যা অভিবাসন প্রত্যাশী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। একই সঙ্গে দেশটির কর্ম-পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে হাজারো কর্মীর ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
টুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানব পাচারের অভিযোগ
মেহেদী হোসেন বলেন, মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম কৌশল হচ্ছে টুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো। তারা কর্মীদের মিথ্যা আশ্বাস দেয় যে, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর অবৈধ অবস্থানকে সরকার বৈধ করে নেবে। এই প্রতারণার শিকার হয়ে বহু কর্মী সর্বস্ব হারিয়ে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও বলেন, এসব অবৈধ কর্মী আইনি জটিলতায় পড়লে দায়ভার এসে পড়ে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ও সরকারের ওপর। পরে এই চক্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে অপপ্রচার চালায়।
বৈধ অভিবাসন নিশ্চিতের দাবি
দেশের স্বার্থে সরকারকে কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শুধুমাত্র বিএমইটি ছাড়পত্র ও স্মার্ট কার্ডধারী বৈধ কর্মীদেরই বৈধকরণের সুযোগ দেওয়া উচিত। যারা অবৈধভাবে বা টুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে, তাদের ক্ষেত্রে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিশেষ আইনি সহায়তা না দেওয়ারও প্রস্তাব করেন তিনি।
তার মতে, এতে অবৈধ অভিবাসন যেমন কমবে, তেমনি মানব পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বস্তুনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান
মেহেদী হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার শুধু ব্যবসার ক্ষেত্র নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম। তাই সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লেখক পরিচিতি:
মেহেদী হোসেন
ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জেআরএন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (আরএল ২৮৩০)
সহ-দপ্তর সম্পাদক, বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সিস ফোরাম
