প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সফরকালে তারা মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শ্রমবাজার ইস্যুতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কোনো সরকারি দপ্তর সফর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হকের সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ শ্রমবাজার কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেছে।
তিনি আরও জানান, দুই পক্ষ নীতিগতভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সঙ্গে আলোচনা শেষে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।
তবে আগের বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রয়োজন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আর রামানান বলেন, বর্তমান এমওইউর মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকায় এটি সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
এদিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের কাছে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, সফরটি নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলেছে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার নেটওয়ার্ক (এমডব্লিউএন)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার লাখো বাংলাদেশি কর্মী, তাদের পরিবার এবং দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ বিষয়ে যেকোনো আলোচনা, সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা উচিত।
এক বিবৃতিতে এমডব্লিউএন সরকারের কাছে সফরের উদ্দেশ্য, আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বৈঠকের আলোচনার বিস্তারিত এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত জানতে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
