প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’ প্রকল্প আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কার্ডটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ব্যাংকিং, বিমানবন্দর, স্বাস্থ্যসেবা, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ডবিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
তিনি জানান, প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষমতায়ন, আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করা এবং ‘ডুয়াল কারেন্সি কার্ড’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রবাসী কার্ডে যেসব সুবিধা মিলবে
সভায় জানানো হয়, প্রবাসী কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে—
- দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ।
- বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা।
- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমপ্লিমেন্টারি ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সুবিধা।
- বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড়।
- ন্যায্যমূল্যে গাড়ি বুকিং এবং সিগনেচার কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সেবা।
- সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ডিসকাউন্ট।
- কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর সুবিধা।
- প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বিমা সুবিধা।
- জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার।
- রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং ও ঋণ সুবিধা।
- কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানো ও সহজ লেনদেন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অগ্রাধিকার।
- ব্যাংক ও সরকার প্রদত্ত অন্যান্য বিশেষ সুবিধা।
প্রথমে জনতা ব্যাংক, পরে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক
শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝি পরীক্ষামূলকভাবে প্রবাসী কার্ডের উদ্বোধন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংক প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক-এর মাধ্যমে প্রবাসী কার্ডের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দক্ষতা উন্নয়নেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনএসডিএ) সময়োপযোগী ও আধুনিকায়নের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

