প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২৫
প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিন বছরব্যাপী দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞাপিত ২,৩০৯টি পদের মধ্যে ১,৮০৭ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে ফাঁকা রয়ে গেছে ৫০২টি ক্যাডার পদ, যা সাম্প্রতিক বিসিএস ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চাকরিপ্রার্থীরা এই পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’, ‘অদূরদর্শী’ ও ‘অন্যায্য’ বলছেন।
পিএসসি জানাচ্ছে—মূলত পেশাগত ও কারিগরি ক্যাডারে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া যাওয়ায় এসব পদ ফাঁকা রয়েছে।
ফাঁকা পদের সংখ্যা—শেষ ছয় বিসিএসে সবচেয়ে বেশি
পিএসসির তথ্য অনুসারে, গত পাঁচ বিসিএস মিলিয়ে যেখানে ৩৬১টি পদ ফাঁকা ছিল, সেখানে ৪৫তম বিসিএসেই এককভাবে ফাঁকা ৫০২টি পদ।
সংক্ষেপে আগের বিসিএসগুলোর চিত্র:
-
৪০তম বিসিএস: ২৫৬ পদ ফাঁকা
-
৪১তম বিসিএস: ১৬ পদ ফাঁকা
-
৪২তম বিসিএস: কোনো ঘাটতি ছিল না (বিশেষ বিসিএস)
-
৪৩তম বিসিএস: ৫৫ পদ ফাঁকা
-
৪৪তম বিসিএস: ৩৪ পদ ফাঁকা
-
৪৫তম বিসিএস: ৫০২ পদ ফাঁকা (সর্বোচ্চ)
কেন ফাঁকা থাকছে এতগুলো পদ—পিএসসির ব্যাখ্যা
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন—
-
পেশাগত/কারিগরি ক্যাডারে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ পূরণ করতে না পারায় বহু পদে উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি।
-
শুধু পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারেই ৪৪০টি পদ ফাঁকা রয়েছে।
-
‘যোগ্যতা শর্ত বাদ দিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করা যাবে না।’
পিএসসির এক সদস্য জানান, ভবিষ্যতে কীভাবে অধিকসংখ্যক পদ পূরণ সম্ভব—তা নিয়ে কমিশন পর্যালোচনা করছে।
চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ: অদূরদর্শী ফিল্টারিং-প্রক্রিয়া
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য—পিএসসি প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় অতি সীমিতসংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ করায় শেষ ধাপে গিয়ে উপযুক্ত প্রার্থী কমে যাচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন:
-
একটি পদের বিপরীতে ৫ জনকেই প্রিলিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
-
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মাত্র ২.৮৪ জন প্রতি শূন্যপদের বিপরীতে।
-
ফলে মৌখিকে কোনো প্রার্থী বাদ গেলে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে পদ ‘শূন্য’ থেকে যাচ্ছে।
ঢাবির প্রার্থী আমজাদ হোসেন জানান—
“প্রিলিতে কাটমার্কস বাড়ানো হয়েছে। দুই হাজার পদের জন্য মাত্র ১০ হাজার প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করা হচ্ছে। লিখিতেও একই অবস্থা। এতে যোগ্য প্রার্থী থাকলেও শেষ ধাপে পৌঁছাতে পারছে না।”
চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও প্রার্থীরাও একই অভিযোগ করেছেন।
তিন বছরের অপেক্ষা—তারপরও পদ পূরণ নয়
৪৫তম বিসিএসের সারসংক্ষেপ:
-
বিজ্ঞপ্তি: ৩০ নভেম্বর ২০২২
-
প্রিলিমিনারি: ১৯ মে ২০২৩
-
লিখিত পরীক্ষা: ২৩–৩১ জানুয়ারি ২০২৪
-
লিখিত ফল: ১৮ জুন ২০২৫
-
চূড়ান্ত ফল: নভেম্বর ২০২৫
প্রার্থীরা বলছেন—তিন বছর অপেক্ষার পরও পদ ফাঁকা রাখার সিদ্ধান্ত অমানবিক।
বিশেষজ্ঞ মত: ‘অন্যায্য ও অমানবিক’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন—
“তিন লাখের বেশি তরুণ পরীক্ষা দিল। অথচ পিএসসি দুই হাজারের মতো পদও পূরণ করতে পারল না! এটাকে যোগ্যতার সংকট বলা যাবে না। বরং এটি অদূরদর্শিতা ও তরুণদের সময় নষ্ট করার উদাহরণ।”
পরবর্তী করণীয়
পিএসসির কর্মকর্তারা জানান—
-
ফাঁকা পদগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
-
পরবর্তী বিসিএসের চাহিদা নির্ধারণে এসব পদ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তবে প্রার্থীরা বলছেন—নিয়ম সংশোধন না করলে ‘ফাঁকা পদ’-এর সংকট বাড়তেই থাকবে।

