প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক:
কুয়েতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ হওয়া প্রবাসীদের জন্য হাসাবিয়া এলাকার একটি সরকারি বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের (এসি) ব্যবস্থা করেছে কুয়েত সরকার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কয়েকটি জরুরি নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে। প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদার। এ সময় তারা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
কুয়েতি কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই ধরনের অভিযান দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব প্রবাসীর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সেখানে অবস্থান করতে পারবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল বা অন্য কোনো প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কুয়েতে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে আবাসনসংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার এবং বাইরে চলাচলের সময় অবশ্যই সিভিল আইডি বা বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে বহনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাস জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
