প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা নতুন গতি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে তৃতীয়বারের মতো মালয়েশিয়া সফরে গেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। সফরে দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা জানা গেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ১১টায় মন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকায় থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। প্রতিনিধি দলে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ মোট চারজন রয়েছেন।
আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে পারেন। যদিও সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে।
এমওইউ স্বাক্ষরের পরিকল্পনা
পুত্রজায়া থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই সমঝোতার মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক অনুমোদিত জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
আনোয়ার ইব্রাহিমের নির্দেশে জোরালো হলো সম্ভাবনা
বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম-এর সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর।
গত শুক্রবার পেনাংয়ের বাটারওর্থে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান মুসলিম ট্রান্সফরমেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক (আইএমটিএফ) ২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি রেস্তোরাঁ শিল্পসহ শ্রমিক সংকটে থাকা কয়েকটি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত আবেদন ও জটিলতা এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, সরকার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল নীতি বজায় রাখতে চায়। তবে যেসব খাতে জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে, সেসব খাতের সংকট দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর নীতি বহাল
এর আগে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ও মাদানি সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানান, মন্ত্রিসভার আলোচনার পর রেস্তোরাঁ, নির্মাণসহ কয়েকটি খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা সরকার পুনর্বিবেচনা করছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। দ্বাদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১২এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দেশের মোট শ্রমশক্তির ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। আর ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন অগ্রগতির প্রত্যাশা
শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমিক সংকট নিরসনে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর চলমান সফর এবং আগামী ৪ আগস্ট মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার পর যদি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর পথ আরও সুগম হতে পারে।
