কুয়ালালামপুর, ২১ জুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করি, যাতে সবাই মিলে ভালো থাকতে পারি।’
রোববার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেলে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের কী দাবি আছে, সেটা থেকে বেরিয়ে এসে আসুন আমরা চিন্তা করি আমাদের কী কর্তব্য আছে দেশের প্রতি। আমরা দেশ থেকে কী নেব, সেই মানসিকতা থেকে বের হয়ে দেশের জন্য কী করতে পারি, সেটাই হোক আমাদের চিন্তা।’
দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান
গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে এবং এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বুকের রক্ত দিয়ে মানুষ দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়ে তুলতে হবে।’
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয়
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। তিনি বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার চিন্তার কথাগুলো আপনাদের বলেছি। দোয়া করবেন, যাতে এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপস্থিত প্রবাসীরা এবং তাঁর পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানান।
উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম ও ধৈর্য
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময় অপেক্ষা করছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সামনে অত্যন্ত সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। কিন্তু এর জন্য আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, কষ্ট করতে হবে এবং সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কুয়ালালামপুরের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার দেশের ভাইয়েরাই এখানে এত সুন্দর কাজ করছে। তারা যদি এখানে পারে, তাহলে আমরা দেশে কেন পারব না?’
প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান
১/১১-পরবর্তী সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর পরিবার নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। তবে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি চাইলে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে অনেক কিছুর প্রতিশোধ নিতে পারি। কিন্তু তাতে কারও উপকার হবে না। তাই প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
প্রবাসীদের স্বার্থে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা
প্রবাসীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি যেমন তাদের দাবি রয়েছে, তেমনি দায়িত্বও রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশিদের স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের প্রবাসী ভাইদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে এ দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে কথা বলব। চেষ্টা করব এ দেশের আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চটা আদায় করতে।’
আজ আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক
মতবিনিময় সভার শুরুতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করীম প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।
দুই দিনের সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
