ঢাকা, ২১ জুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২২ জুন) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা সফরে অংশ নিয়েছেন।
মালয়েশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনে সমর্থন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও আলোচনা হবে। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
চীন সফরে ১৭টি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা
মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন রাতে চীনের দালিয়ান প্রদেশে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৩ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত তিনি চীন সফর করবেন।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, এ সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে ১৩টি এমওইউ, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সামার দাভোসে অংশগ্রহণ
চীন সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি সামার দাভোস সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ জুন ডব্লিউইএফের অধিবেশনে ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম
২৪ জুন সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
২৫ জুন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ বক্তব্য রাখবেন তিনি। সেখানে চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
একই দিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের উপস্থিতিতে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান।
সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক
২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন।
সফর শেষে ২৬ জুন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা
সরকারের প্রত্যাশা, মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগ এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
