কুয়ালালামপুর, ২৪ জুন ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও নৈতিক করতে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেছে, শ্রমিক নিয়োগে শোষণ, বৈষম্য ও অনিয়ম দূর করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে কাজ করবে।
সোমবার (২৩ জুন) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে দেশটির অন্যতম প্রধান শ্রমশক্তি সরবরাহকারী দেশ হওয়ায় শ্রমিক কল্যাণ, সুশাসন এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
রামানান বলেন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানো গেলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও কল্যাণ আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদাও টেকসই ও দায়িত্বশীল উপায়ে পূরণ করা যাবে।
তিনি আরও জানান, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং শ্রম প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
এর আগে সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক অভিবাসন আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও উভয় দেশের জন্য লাভজনক করতে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবগঠিত এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান শ্রমবিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতা, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কমিয়ে আনতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য তাৎপর্য
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। বর্তমানে দেশটিতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। নতুন উদ্যোগের ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আরও আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
