প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও পুরোপুরি উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমাদের সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনার ফলস্বরূপ চলতি আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সেদেশের শ্রমবাজার আবারও পুরোদমে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সুখবর।”
তিনি বলেন, সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন (জিসিএম)-এর চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অভিবাসন ব্যয় কমাতে সরকারের উদ্যোগ
শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের কারণে অনেক কর্মী দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ঋণের বোঝা বহন করছেন, যা তাদের পরিবারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি জানান, অভিবাসন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে বিদেশগামী কর্মীরা কম খরচে নিরাপদ উপায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।
দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় ভবিষ্যতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ কর্মীদের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এই চাহিদা পূরণে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি জানান।
দূতাবাসের সেবা আধুনিকায়নের উদ্যোগ
প্রবাসীদের সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কনস্যুলার সেবা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ।
তিনি আরও বলেন, অভিবাসন খাতের সমন্বয় এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড এনআরবি অ্যাফেয়ার্স উইং’ চালু করা হয়েছে।
নিরাপদ অভিবাসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।
