প্রকাশের তারিখ: ১১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল। একই সঙ্গে সরকারও এ ধরনের উদ্যোগের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধিতে আনা একটি সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এ দাবি উত্থাপন করেন বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ আলোচনা
বিরোধী দলের নেতার উত্থাপিত প্রস্তাবে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় উন্নয়নে প্রবাসীদের অব্যাহত ভূমিকা নিয়ে সংসদে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, সরকারি দলের সংসদ সদস্য বরকতউল্লা ও মনিরুল হক চৌধুরী এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান, মাহবুবুল আলম ও আবদুল হান্নান মাসউদ।
‘সমস্যাপ্রবণ দেশগুলোতে যেতে পারে টাস্কফোর্স’
শফিকুর রহমান বলেন, যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন, সেখানে প্রস্তাবিত টাস্কফোর্স সরেজমিনে গিয়ে প্রবাসী কর্মী, দূতাবাস কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিতে পারে।
তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতির জন্য শুধু আর্থিক রেমিট্যান্স নয়, ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের দেশে ফিরে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা অর্থ নয়, সম্মান ও পেশাগত স্বাধীনতা চান। উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ই-পাসপোর্ট জটিলতায় ভোগান্তির অভিযোগ
প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন বিরোধী দলের নেতা। তিনি বলেন, এমআরপি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য নথির তথ্যের মধ্যে সামান্য অমিল থাকায় অনেক প্রবাসী ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ছেন।
নামের বানান, বয়স বা তথ্যগত ছোটখাটো পার্থক্যের কারণে বহু প্রবাসীর পাসপোর্ট নবায়ন বা ইস্যু বিলম্বিত হচ্ছে। এতে অনেকেই বিদেশে বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া বিদেশে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
ইতিবাচক সরকারের অবস্থান
বিরোধী দলের প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দ্রুত গঠন করেও অনেক বিষয় কার্যকরভাবে সমাধান সম্ভব।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সেবাখাতে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রবাসীকল্যাণ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আশাবাদ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায় নির্ধারিত হয়েছে। সরকার দেশটির শ্রমবাজারকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
‘সিন্ডিকেটমুক্ত শ্রমবাজার চায় সরকার’
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বারবার খোলা ও বন্ধ হওয়ার বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীও স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়।
ভোটাভুটি ছাড়াই আলোচনা শেষ
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ১৪৭ বিধিতে আনা প্রস্তাব সাধারণত আলোচনা শেষে ভোটাভুটিতে দেওয়া হয়। তবে বিরোধী দলের নেতার উত্থাপিত এ প্রস্তাবে কেবল আলোচনা চাওয়া হয়েছিল। ফলে প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে না দিয়ে আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

