প্রবাস বুলেটিন ডেস্ক
ঢাকা | ২ জুলাই ২০২৬

বিদেশি কর্মী নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দূর করতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রীয় ওয়ান-স্টপ সেন্টার (ওএসসি) সম্পূর্ণভাবে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের (MOHR) অধীনে পরিচালিত হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত বিদেশি কর্মীবিষয়ক বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি

বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আহমদ জাহিদ বলেন, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় সরকারের লক্ষ্য হলো একটি আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, “আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সুশাসনভিত্তিক করা। একই সঙ্গে শিল্পখাতের প্রকৃত শ্রমশক্তির চাহিদা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।”

সরকারি এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মী তদারকির দায়িত্বে থাকা বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যসংখ্যা এবং কার্যপরিধি (Terms of Reference) পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপপ্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের বাস্তব ও যাচাইকৃত শ্রমশক্তির চাহিদার ভিত্তিতে জাতীয় জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। প্রতিটি খাতের প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের নীতি নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বল্পদক্ষ বিদেশি শ্রমিকের ওপর মালয়েশিয়ার অতিনির্ভরশীলতা কমাতে সরকার অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করে আহমদ জাহিদ বলেন, বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় যেসব নতুন নীতি ও সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে, সেগুলো জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, শ্রমবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কমবে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশসহ শ্রম প্রেরণকারী দেশগুলোর জন্যও ভবিষ্যতে একটি আরও সুসংগঠিত ও নীতিনির্ভর নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Leave A Reply

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, অভিবাস ও প্রবাস জীবন সংক্রান্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল।

যোগাযোগ

সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্স (১১তম ফ্লো), রুম ১২/৮, ৬৭, নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০ ১৫৩৩-১৯০৩৭১, ইমেইল: info@probashbulletin.com

Exit mobile version