কুয়ালালামপুর, ৭ জুলাই
বিদেশি কর্মী নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘কেস বাই কেস’ ভিত্তিক কোটা অনুমোদন পদ্ধতি বাতিল করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এখন থেকে নিয়োগদাতাদের সব আবেদন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। ফলে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো, ব্যক্তিগত তদবির কিংবা বিশেষ বিবেচনায় কোটা অনুমোদন পাওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।
সোমবার (৬ জুলাই) কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান।
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনার ওয়ান-স্টপ সেন্টার (OSC) এখন থেকে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে এবং এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
এফডব্লিউসিএমএসের মাধ্যমে অনলাইন আবেদন
আর. রামানান বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটার সব আবেদন এখন থেকে Foreign Workers Centralised Management System (FWCMS)-এর ই-কোটা (e-Quota) মডিউল ব্যবহার করে অনলাইনে জমা দিতে হবে।
তিনি বলেন, “এখন আর ‘কেস বাই কেস’ পদ্ধতি নেই। সবাইকে নির্ধারিত ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। দ্রুত অনুমোদন বা অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার জন্য মন্ত্রী বা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হবে।”
লাইনে দাঁড়ানো বা তদবিরের প্রয়োজন নেই
মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে নিয়োগকর্তাদের আর মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সিরিয়াল নম্বর সংগ্রহ বা সাক্ষাতের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। অতীতে বিশেষ করে জোহর, কেদাহসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নিয়োগকর্তারা কুয়ালালামপুরে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন। অনেক সময় সিরিয়াল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের আবেদন না করেই ফিরে যেতে হতো।
নতুন ব্যবস্থায় অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাক্ষাতের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই ও সুপারিশের ভিত্তিতে ওয়ান-স্টপ সেন্টার আবেদন মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
অ্যালগরিদমভিত্তিক স্বচ্ছ ব্যবস্থা
রামানান বলেন, নতুন অ্যালগরিদমভিত্তিক ব্যবস্থা আবেদনকারীর পরিচয়, প্রভাব বা ব্যক্তিগত যোগাযোগ বিবেচনা করবে না। বরং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো আবেদনকারী বারবার নির্ধারিত সাক্ষাতের সময় উপস্থিত না হলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করবে। এতে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা অন্যান্য নিয়োগকর্তারা সময়মতো সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
সিন্ডিকেটের সুযোগ কমবে
বিদেশি কর্মী নিয়োগে অতীতে কথিত সিন্ডিকেট বা কার্টেলের প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ফলে অনিয়ম, তদবির এবং কারসাজির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, কারণ আবেদন থেকে অনুমোদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে সম্পন্ন হবে।
২২ হাজারের বেশি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ
মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এ পর্যন্ত ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মোট ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মালয়েশিয়া সরকারের এই উদ্যোগ বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শ্রম রপ্তানিকারক দেশের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াও আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

