প্রকাশের তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিবেদক | প্রবাস ডেস্ক
মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা আংশিকভাবে চালু রয়েছে। সরকারি খাতে সীমিত আকারে নিয়োগের পাশাপাশি এবার বেসরকারি খাতেও নির্দিষ্ট শর্তে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে দেশটির সরকার। তবে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করার জন্য প্রবাসীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
ভিসা নীতির পটভূমি
দীর্ঘ বিরতির পর মালদ্বীপের বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা উন্মুক্ত করে। কিন্তু অবৈধ নিয়োগ ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২৪ সালে আবারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় দেশটি।
পরবর্তীতে দেশটিতে তীব্র কর্মী সংকট দেখা দিলে অতিরিক্ত সুরক্ষা ও যাচাই নীতি গ্রহণ করে শুধুমাত্র সরকারি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয় মালদ্বীপ সরকার।
সরকারি প্রয়োজনে নিয়োগের চিত্র
কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ থাকলেও,
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শুধুমাত্র সরকারি প্রয়োজনে—
-
১৭ হাজার ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট পেয়েছেন
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দালালদের তৎপরতার কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী বৈধ সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।
বেসরকারি খাতে নতুন সুযোগ
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোটা পদ্ধতির পরিবর্তে—
-
নিয়মিত ফি পরিশোধকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান
-
১০ জনের বেশি কর্মী নিয়োগে অনুমোদনপ্রাপ্ত
এতে মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
হাইকমিশনের সতর্কতা
বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—
-
দালাল বা অবৈধ মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে
-
শুধুমাত্র বৈধ নিয়োগকারী ও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে হবে
‘অপারেশন কুরাঙ্গী’: ধরপাকড় অব্যাহত
এদিকে মালদ্বীপ সরকার পরিচালিত ‘অপারেশন কুরাঙ্গী’ নামে বিশেষ অভিযানে পবিত্র রমজান মাসেও ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত—
-
৭ হাজার ৩৭৫ জন অভিবাসীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল
-
৬ হাজার ৩১৫ জন অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, মালদ্বীপে বেসরকারি খাতে নিয়োগের নতুন সুযোগ প্রবাসী কর্মীদের জন্য ইতিবাচক হলেও অবৈধ পথে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সরকারের অনুমোদিত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার বাইরে না গিয়ে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

