প্রকাশের তারিখ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫
ওয়াশিংটন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানিয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানে লালগালিচা বিছানো হয়, বাদক দল পরিবেশনা করে এবং সামরিক বিমানের প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়।
প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক:
ট্রাম্প ও যুবরাজের বৈঠকে মার্কিন-সৌদি প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী সৌদি আরবকে ‘ন্যাটোর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র’ (Non-NATO Major Ally) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এ ধরনের দেশগুলোকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সহজভাবে পাওয়া যায় এবং জটিল লাইসেন্স প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় না।
ট্রাম্প এবং যুবরাজ এক কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি ৮০ বছরের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
সৌদি আরব-ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ক আলোচনা:
ট্রাম্প ও যুবরাজ আব্রাহাম চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুবরাজ মোহাম্মদ উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরব সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি চায়। ট্রাম্প বলেন, এক রাষ্ট্র ও দুই রাষ্ট্র সমাধান নিয়ে কার্যক্রমে আরও আলোচনা হবে।
বিনিয়োগের ঘোষণা:
ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগের জন্য ধন্যবাদ জানান। যুবরাজও বলেন, এই বিনিয়োগের পরিমাণ ভবিষ্যতে এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। বিনিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ওয়াল স্ট্রিটে চাকরি ও সম্পদ সৃষ্টি হবে।
উভয় পক্ষ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল উপাদান ও চুম্বকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
ইরান সম্পর্কিত বক্তব্য:
ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার বিষয় নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন, তবে পরে তিনি বলেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। যুবরাজ মোহাম্মদ উল্লেখ করেছেন, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে সমর্থন দেবে।
প্রকাশ্য আচরণ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথন:
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও যুবরাজ দুজনই হাসিমুখে ছিলেন এবং প্রশংসামূলক মন্তব্য বিনিময় করেছেন। একপর্যায়ে ট্রাম্প যুবরাজের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনা করেছেন। তবে ট্রাম্প এক সাংবাদিককে কড়া সমালোচনা করেছেন, যিনি যৌন নিপীড়ণ ও অন্যান্য সংক্রান্ত প্রশ্ন করেছেন।
উপসংহার:
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হোয়াইট হাউস সফর রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। প্রতিরক্ষা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

