প্রকাশের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, স্থানীয় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী এক শীর্ষসন্ত্রাসী মফিজুর রহমান ওরফে মামুন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ দোকানে মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেন। হামলাকারীরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় পালানোর চেষ্টা করলে চালক আরিফ হোসেনকে আহত করা হয়। স্থানীয় জনতা জনি ভূঁইয়াকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে।
পল্লবী থানার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—জনি ভূঁইয়া, সোহেল ওরফে পাতা সোহেল/মনির হোসেন (৩০), সোহাগ ওরফে কালু (২৭), মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮) ও রোকন (৩০)। এছাড়া আরও সাত-আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিও জড়িত।
পেছনের কারণ ও সন্ত্রাসীর প্রভাব:
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পলাতক আসামি মামুন বিদেশে বসে এলাকায় আধিপত্য ও লেনদেনের বিরোধের কারণে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে কিবরিয়াকে হত্যা করান। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, কিবরিয়া মামুনের নির্দেশ মেনে চলতে রাজি না হওয়ায় ও পূর্বের পাওনা টাকা পরিশোধে তর্কের কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় ও সরবরাহের কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকার যুব সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন।
সন্ত্রাসী মামুনের অবস্থান ও ইতিহাস:
মামুন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন, আর তার ভাই মশি ভারতে রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি চাঁদাবাজি, মাদক, ডাকাতি ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ২টি সাজা পরোয়ানা রয়েছে। ২০২১ সালে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও জামিনে বের হয়ে তিনি বিদেশে পালিয়ে যান।
সাংবাদিকদের কাছে পুলিশ মন্তব্য:
মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানিয়েছেন, আটক জনি ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং নেপথ্যের ব্যক্তিরা শনাক্ত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব:
কিবরিয়ার মৃত্যু এলাকার যুবদল নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, “এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির ফলে দলীয় নেতারা নিরাপত্তাহীনতায় পড়ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর থাকলে কিবরিয়া এভাবে নিহত হতেন না।”
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মতে, পল্লবী এলাকায় অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৪ সালে চার নেতা খুন, ২০০৫ সালে এক নেতা পুলিশের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন।
উপসংহার:
কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ড পল্লবী এলাকায় রাজনৈতিক এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মধ্যে সম্পর্ককে সামনে এনেছে। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার পেছনের নেপথ্য সন্ত্রাসী চক্র শনাক্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে।

