ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬
রাশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বর্তমান প্রায় ১০ হাজার থেকে আগামী বছরের মধ্যে ১ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সফরকালে তিনি রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও তার সঙ্গে রয়েছেন।
আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা আগামী বছরের মধ্যে ১ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছেন। প্রস্তাবের জবাবে রুশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কাজ করতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেছে যে, শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ একমত হয় যে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় এখনও অনেক কম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির জন্য রাশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও জোর দেন।
বৈঠকে প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে রাশিয়া। এ বিষয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে রাশিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবে বলে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।

