বুধবার, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকা, ৮ জুন ২০২৬:

বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার দ্রুত সমাধানে ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি জনশক্তি নিয়োগের লক্ষ্যে একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

এর আগে সংরক্ষিত নারী আসন-৪৪ এর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তিনি দাবি করেন, নিরাপত্তাহীনতা, বেতন বঞ্চনা, চুক্তি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক কোনো না কোনো ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হন।

নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা সুবিধা, ২৪ ঘণ্টার হটলাইন এবং সেফ হোমের ব্যবস্থা রয়েছে কি না— এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু বলেন, বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ১৬১৩৫ নম্বরের টোল-ফ্রি হটলাইনের মাধ্যমে দেশের বাইরে অবস্থানরত যেকোনো প্রবাসী কর্মী তাদের সমস্যা, অভিযোগ বা প্রয়োজনীয় সেবার বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক দেশের সঙ্গে শ্রমিক সুরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ছিল না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন এমওইউ স্বাক্ষরিত হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানির ঘটনায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সেফ হোম বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম কার্যক্রম চালু রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আগের তুলনায় নির্যাতনের শিকার হয়ে নারী কর্মীদের দেশে ফেরত আসার সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত নারী কর্মীদের জন্য আইনি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় প্রতিকার নিশ্চিত করতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

নারী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার এখন আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যে দেশে কর্মী পাঠানো হবে সেখানে কর্মপরিবেশ, শ্রম অধিকার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) নির্ধারিত সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পরই কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে নুরুল হক নুরু বলেন, সরকার একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ গঠনের বিষয় বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে বিদেশি নিয়োগকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী নির্বাচন করতে পারবেন। ফলে রিক্রুটিং এজেন্সির বাইরেও কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা বাড়বে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নারী প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারীদের অধিকার সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

Leave A Reply

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, অভিবাস ও প্রবাস জীবন সংক্রান্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল।

যোগাযোগ

সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্স (১১তম ফ্লো), রুম ১২/৮, ৬৭, নয়াপল্টন, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০ ১৫৩৩-১৯০৩৭১, ইমেইল: info@probashbulletin.com

Exit mobile version