পেনাং, মালয়েশিয়া
রাজধানী কুয়ালালামপুরে না গিয়েই প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে শত শত প্রবাসী অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করেন।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই পেনাংয়ের জর্জটাউনে অবস্থিত এনবিএল রেমিট্যান্স হাউস প্রাঙ্গণে প্রবাসীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) একই স্থানে দিনব্যাপী সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বিশেষ এই কনস্যুলার ক্যাম্পে ই-পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। রাজধানীর বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য এই উদ্যোগ সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের অনেকেই জানান, একটি পাসপোর্ট নবায়ন বা অন্য কোনো কনস্যুলার সেবার জন্য এতদিন কুয়ালালামপুরে যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল ছিল। পেনাংয়ে এ ধরনের সেবা চালুর ফলে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের প্রধান ইয়াসিন কবির জানান, মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশনায় প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজ্যে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়ার অন্যান্য রাজ্যেও এ ধরনের মোবাইল কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
ক্যাম্পে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ইএসকেএল (ESKL)-এর কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালন করেন। তারা আবেদন গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
প্রবাসীদের মতে, রাজধানীর বাইরে নিয়মিত মোবাইল কনস্যুলার সেবা চালু থাকলে শুধু সময় ও অর্থ সাশ্রয়ই হবে না, বরং সরকারি সেবা আরও সহজলভ্য হবে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও দূরবর্তী রাজ্যগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য এ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

