তারিখ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার | প্রবাস বুলেটিন
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের মূল সিদ্ধান্ত
শেখ হাসিনা
-
তিন পৃথক মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড
-
মোট আসামির তালিকায় সবচেয়ে গুরুতর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি
সজীব ওয়াজেদ জয়
-
এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড
-
১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
-
এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড
মামলার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি
-
চলতি বছরের ৩১ জুলাই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু
-
১৭ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ
-
২৩ নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন
-
নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ২৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা
অন্যান্য আসামি ও সাজা
তিন মামলায় ব্যক্তি হিসেবে মোট আসামি ২৩ জন, মামলার সংখ্যায় আসামি ৪৭ জন।
প্রসঙ্গযোগ্য সাজা:
-
মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি):
-
তিন মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের কারাদণ্ড
-
তিন মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার থাকা আসামি
-
-
সাইফুল ইসলাম সরকার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা:
-
তিন মামলাতেই খালাস
-
আরও অন্তর্ভুক্ত আছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, বিভিন্ন সময়ে রাজউকের সদস্য, পরিচালক, উপপরিচালক, সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিনসহ আরও ২০ আসামি।
পটভূমি
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা করে। ওই মামলাগুলোতে শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। আজ ঘোষিত রায় এই ছয় মামলার মধ্যে প্রথম তিনটির নিষ্পত্তি।
এর আগে ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলার আরেক আসামি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় ৫ বছরের কারাদণ্ড পান।
শেষ কথা
পূর্বাচল দুর্নীতি মামলার এই রায় বাংলাদেশে উচ্চপর্যায় থেকে প্রশাসনিক পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হলো। আপিল হওয়া বা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপে এই রায়ের প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

