জেনেভা/ঢাকা, ৮ জুন ২০২৬
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মরিশাসে বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন (আইএলও) ২০২৬-এর সাইডলাইনে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশ দ্রুত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মরিশাস সরকারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মরিশাসে বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণের লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদের সক্ষমতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টেক্সটাইল খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, প্রকৌশলী, নার্স, অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশার দক্ষ জনশক্তি মরিশাসে পাঠাতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। বৈঠক শেষে তিনি মরিশাসের শ্রম মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মরিশাসের শ্রম মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিম বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়ে মরিশাস সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। বিশেষ করে দেশটির ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের একটি খসড়া খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও মরিশাস সরকারের গভীর আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশটির শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তি প্রবেশের পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

